৯ ছেলেমেয়ে, বাবা-মায়ের পাশে নেই কেউ

0
398

মানুষের জন্য ডেস্ক: আব্দুল জব্বার। বয়স ৭০। নেত্রকোনা সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়নের দুগিয়া গ্রামের বাসিন্দা। পেশায় একজন ফেরিওয়ালা। নিজের বয়স্ক ভাতা ও স্ত্রীর পঙ্গু ভাতার কার্ডের টাকা এবং পাড়ায় পাড়ায় বুট, চানাচুর, বিস্কুট বিক্রির টাকায় সংসার চালান তিনি।

দম্পতির দুই ছেলে, ঢাকায় রিকশা চালান। সাত মেয়ে, পাঁচজনের বিয়ে হয়েছে, দুজন অবিবাহিত, মামাবাড়িতে থাকেন। বাবা-মাকে দেখাশোনা করেন না ছেলেমেয়ে কেউ। জায়গাজমি বলতে নিজের ঘরের জায়টাই আছে। তবে ঘর বলতে একটি ঝুপড়ি।

আব্দুল জব্বারের ৬৫ বছর বয়স্ক স্ত্রী রাজু আক্তার শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী। জন্মগত পঙ্গুত্বের কারণে একা একা উঠতে-বসতেও পারেন না। সবসময় শুয়ে থাকতে হয়। স্বামী সকাল থেকেই বের হন জীবিকার সন্ধানে। অসুস্থ স্ত্রীকে দেখাশোনা আর রান্নাবান্নার কাজ নিজেকেই করতে হয়। স্ত্রী রাজু আক্তারের অসুস্থতা আর বৃষ্টির কারণে গত তিনদিন যাবত দোকান নিয়ে বের হতে পারেননি। আটকে আছে এই বৃদ্ধ দম্পতির অসহায়ের সংসার। গত তিনদিন ধরেই অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে চিড়ামুড়ি খেয়ে আছেন।

নির্জন জঙ্গলে একটি ঝুপড়ি ঘরে তাদের দু’জনের বসবাস। সামান্য বৃষ্টিতেই চালের ছিদ্র দিয়ে পানি ঢুকে পুরো ঘর ভিজে যায়। চুলাও জ্বলে না। রান্নাবান্নাও থাকে বন্ধ। চুলায় বৃষ্টির পানি ঢুকে গেলে আগুন ধরাতে পারেন না কয়েকদিন। তখন নিজের আর মানসিক ভারসাম্যহীন স্ত্রীর খাবার খাবারের জন্য পাত্র নিয়ে ছুটে চলেন মানুষের বাড়ি বাড়ি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঘরে ঢুকতেই প্রথমে চোখে পড়ে চৌকির নিচ দিয়ে একটি ড্রেন। চাচার স্ত্রী শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় থাকার চৌকিতেই বাথরুম করেন। সেই মল এই ড্রেন দিয়ে পরিষ্কার করেন চাচা নিজেই। বয়সের কারণে তার চোখ দুটোতে ছানি পড়েছে। চোখেও কম দেখেন। কয়দিন আগে তার স্ত্রীর পা কেটে যাওয়ায় ক্ষতের সৃষ্টি হয়। চিকিৎসার অভাবে সেই ক্ষত পচে পোকা ধরেছে। তবে, চিকিৎসার ব্যবস্থা হয়েছে।

চোখে কম দেখেন তারপরও অসুস্থ স্ত্রীর দেখাশোনা, অর্থনৈতিক সংকট, ঘরের অভাব সবকিছু মিলিয়ে জব্বার মিয়া বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা আসাদ মিয়া বলেন, একটি ঘর না থাকায় বৃষ্টির দিনে তারা কতটা ভোগান্তিতে পড়েন, সেটা নিজ চোখে না দেখলে উপলব্ধি করার সুযোগ নেই। একটু বৃষ্টি হলেই সারারাত জেগে কাটান তারা। সমাজের অসহায় শ্রেণির মানুষের প্রতি আমাদের সবার নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব রয়েছে। এই দায়িত্বের জায়গা থেকে তাদের সাহায্য করা প্রয়োজন।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here