৪ মাস পর ধরা পড়ল হত্যাকারী, তবুও মিলল না লাশের পরিচয়

0
393

মানুষের জন্য ডেস্ক: ঘটনাটি গত ২৯ মার্চের। গাজীপুর সদর পুলিশ ফাঁড়ি এলাকায় ডিউটি করছিলেন। এ সময়ে স্থানীয় ইউপি মেম্বার তাকে মোবাইল ফোনে জানায়, জয়দেবপুর থানার আলমগীর হোসেন এর মাছের খামারের দক্ষিণ পূর্ব কোণে পানিতে একটি অজ্ঞাতনামা মানুষের মৃতদেহ ভাসছে।

পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অজ্ঞাতনামা মৃতদেহটি স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় পানি থেকে ডাঙ্গায় উঠিয়ে লাশের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করেন। এরপর অজ্ঞাতনামা সেই পুরুষের লাশের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে লাশের ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়ে দেন তিনি।

সেই অজ্ঞাতনামা পুরুষের লাশের পরিচয় আজও মেলেনি। কিন্তু ঘটনার চার মাস পরে ওই ব্যক্তির দুই হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) গাজীপুর জেলা ইউনিট।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- শিমুল মোল্লা (৩০) ও শরীফ খান (২৮)। শুধুমাত্র ইয়াবার টাকা আত্মসাৎ করতেই তারা সেই অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে হত্যা করেছেন বলে গত ৯ আগস্ট আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন। এর ফলেই মামলাটির রহস্য উদঘাটিত হয়। মামলা সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

৪ মাস পর যেভাবে গ্রেপ্তার হত্যাকারীরা

মামলা সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিনে জয়দেবপুর থানা এলাকার আলমগীর হোসেনের মাছের খামার থেকে অজ্ঞাতনামা মানুষের মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এসআই ননী গোপাল সরকার বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করেন। পরে জয়দেবপুর থানায় গত ৩০ মার্চ একটি মামলা দায়ের হয়।

পরে জয়দেবপুর থানায় দায়ের হওয়া মামলাটি প্রথমে পুলিশ পরিদর্শক দুলাল চন্দ্র সরকার তদন্ত করেন। ঘটনার পর পরই পিবিআই গাজীপুরে একটি টিম ওই ঘটনায় ছায়া তদন্ত শুরু করে। পরে জয়দেবপুর থানায় তদন্তাধীন থাকাকালে পিবিআই হেডকোয়ার্টার্স ঢাকার নির্দেশে মামলাটি গ্রহণ করে গাজীপুর ইউনিট।

মামলাটি তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক এ কে এম রেজাউল করিম গত ২ এপ্রিল মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায়। এরপর সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ঘটনায় জড়িত আসামি শিমুল মোল্লা (৩০) ও শরীফ খান (২৮) কে গত ৫ আগস্ট রাতে গাজীপুর জেলাড় জয়দেবপুর থানার কামারিয়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেন।

পরে গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের ৪ দিনের পুলিশি রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আসামি শিমুল মোল্লাকে ৯ আগস্ট আদালতে সোপর্দ করলে সে নিজেকে ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে অন্যান্য সহযোগী আসামিদের নাম উল্লেখ করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।

যেভাবে হত্যা অজ্ঞাতনামা সেই ব্যক্তি

পিবিআই জানায়, আসামি শিমুল মোল্লা দীর্ঘদিন থেকে এলাকায় ইয়াবার ব্যবসা করে। ঘটনায় জড়িত অন্যান্য সহযোগী আসামিরাও প্রত্যেকেই ইয়াবার ব্যবসা করে। অজ্ঞাতনামা ওই ব্যক্তি নিয়মিতভাবে চট্টগ্রাম থেকে ইয়াবা এনে তাদের নিকট সরবরাহ করতো। ঘটনার দিন নিহত অজ্ঞাতনামা ওই ব্যক্তি এক হাজার ৫০০ পিচ ইয়াবা নিয়ে তাদের নিকট পৌঁছে দেওয়ার জন্য চট্টগ্রাম থেকে গাজীপুরে আসে। তখন এতগুলো ইয়াবার টাকা না দেওয়ার জন্য অজ্ঞাতানাম সেই ব্যক্তিকে হত্যা করেন তারা। এরপর লাশ গুম করার জন্য চিলনী বিলের মাছের প্রজেক্টের পানিতে লুকিয়ে রাখেন লাশ।

এই বিষয়ে পিবিআই গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান বলেন, ঘটনায় জড়িত আসামিরা প্রত্যেকেই এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী। এমনকি নিহত ব্যক্তি নিজেও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিল। অজ্ঞাতানাম সেই ব্যক্তিকে প্রায়শ ইয়াবা চালান এনে ঘটনায় জড়িত আসামিদের নিকট পৌছিয়ে দিতো।

ঘটনার দিনে ইয়াবা চালান নিয়ে অজ্ঞাতানামা সেই ব্যক্তি আসামিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে চট্টগ্রাম থেকে গাজীপুর জেলা জয়দেবপুর থানার বাড়ীয়া এলাকায় আসে। তখন গ্রেপ্তারকৃত আসামিসহ তার সহযোগী অন্যান্য আসামিরা পূর্বের ইয়াবার টাকা ও ঘটনার দিনের সরবরাহকৃত ইয়াবার টাকা না দেওয়ার উদ্দ্যেশেই প্রথমে তাকে মারধর করে। এরপর গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশটি গুম করার জন্য প্লাষ্টিকের চট দিয়ে পেঁচিয়ে চিলনি বিলে মাছের প্রজেক্টে পানিতে ডুবিয়ে দেয়।

তিনি আরও বলেন, অজ্ঞাতানামা সেই ব্যক্তির পরিচয় বের করতে তদন্ত চলছে। অজ্ঞাতানামা সেই লাশের নাম ঠিকানা খুব শিগগিরই শনাক্ত হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here