৪০ লাখ টাকা নিয়ে লাপাত্তা মসজিদের ইমাম

0
1190

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় মালিগছ গ্রাম থেকে বিভিন্ন উপায়ে প্রায় ৪০ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে ওই গ্রামেরই জামে মসজিদের ইমাম আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গ্রামের ভুক্তভোগী মানুষ ইমামকে গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন।

আজ রোববার দুপুরে উপজেলার ভজনপুর ইউনিয়নের মালিগছ এলাকায় ঝাড়ু মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে অন্তত ২০টি পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন।

জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী অভিযুক্ত ইমাম আতিকুর রহমান নাটোর জেলার সদর উপজেলার তেবাড়িয়া গ্রামের মোজাহার আলীর ছেলে। তবে সে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গায় ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে কাজ করছেন বলে জানান ভুক্তভোগীরা।

ভুক্তভোগীরা জানান, গত বছর ঐতিহ্যবাহী মালিগছ বামনপাড়া জামে মসজিদের জন্য কমিটি ইমাম খুঁজলে এলাকার পরিচিত একজনের মাধ্যমে আতিকুর রহমানকে ইমাম হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ওই সময় আতিকুর রহমান নিজের পরিচয় গোপন রেখে ভুয়া পরিচয়ে ইমামের চাকরি নেন। কিছুদিন পর তিনি ইমামতির পাশাপাশি ঠিকাদারি ব্যবসা ও অসুস্থ্যতার কথা বলে সুদের মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে দেড় বছরে গ্রামের বিভিন্নজনের থেকে প্রায় ৪০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য চাপ দিলে গত ৪ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে আতিকুর রহমান এলাকা থেকে পালিয়ে যান।

ভুক্তভোগী আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘মালিগছ বামনপাড়া মসজিদের আমি একজন মুসল্লি। গত বছরের ৩০ জুন আমাদের মসজিদে আতিকুর রহমানকে ইমাম হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর থেকে তিনি এ এলাকার মানুষের সাথে নিবির সম্পর্ক তৈরি করেন এবং ‘মেসার্স বিসমিল্লাহ ট্রেডার্স-ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পরিচালনার কথা বলে গোপনে গোপনে অনেক মানুষের থেকে টাকা ধার নেন। কিন্তু যার কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন, তা অন্যজনকে জানাতে নিষেধ করেছেন। এভাবে তিনি প্রায় ১৮/২০ জনের কাছ থেকে প্রায় ৪০ লাখ টাকা লাভ দেওয়ার কথা বলে হাতিয়ে নেন। আমার কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা নিয়েছেন তিনি।

ভুক্তভোগী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি তাকে ধার হিসেবে ৩ লাখ টাকা দিয়েছিলাম। কিছুদিন আগে টাকা চাইতে গেলে জানান, “সেপ্টেম্বরে আমার বিল হবে, তখন দিয়ে দিব।” এখন দেখি গত ৪ সেপ্টেম্বর রাতে সে পালিয়ে গেছে।

ভুক্তভোগী শাহিনা বেগম বলেন, ‘হুজুর আমার বাসায় ভাড়া থাকতেন। আমার পরিবার থেকে তিনি ২ লাখ ২১ হাজার টাকা ধার নিয়েছেন। এখন আমার পরিবার আমাকে টাকার জন্য খুব চাপ দিচ্ছেন।

মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের বলেন, ‘এই ইমাম এমন প্রতারক হবে তা আমরা জানতাম না। তিনি আমাদের মসজিদের ইমামতি, বিভিন্ন মাহফিলে ওয়াজ করেছেন। তা দেখে আমরা খুব বিশ্বাস করেছিলাম। সে আমাদের এখানে বিভিন্নজনের কাছে টাকা নিয়ে এভাবে রাত ৩/৪ টার সময় উধাও হয়ে যাবে, তা ভাবতে পারিনি। শুনেছি, সে বগুড়াতেও এরকম এক এলাকার মানুষের কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। আমরা এ প্রতারক ইমামকে গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।’

ভজনপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য কাজিম উদ্দিন বলেন, এলাকাবাসীর কাছে আমি শুনেছি বিষয়টি। একজন ইমাম হয়ে কিভাবে এতোগুলো মানুষের কাছ টাকা ধার নিয়ে পালিয়ে যেতে পারে তা ভাবতে পারছি না। তাই প্রতারক ইমামকে গ্রেপ্তার করে ভুক্তভোগী মানুষগুলোর টাকা ফেরতের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক এমনটাই দাবি জানাচ্ছি।’

তেঁতুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ চৌধুরী বলেন, বিষয়টি শুনেছি। এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের প্রেক্ষিতে তা তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here