হাজারো মানুষকে সুস্থ করেছেন বাঁচাতে পারলেন না সন্তানকে

0
231

কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স শিমুল আক্তার দীর্ঘ ১০ বছর হাজারো মুমূর্ষু রোগীর সেবা দিয়ে সুস্থ করে তুলেছেন। তবে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত নিজের সাত বছর বয়সী সন্তানকে বাঁচাতে পারেননি মমতাময়ী এই সেবিকা। মাত্র তিন দিনের জ্বরে জীবনপ্রদীপ নিভে গেল শিশুটির।

কোনোভাবেই শিশু আলিফ ইসলাম শাওনের এমন মৃত্যু মানতে পারছে না তার পরিবার। কাঁদতে কাঁদতে শিশুটির বাবা তাজুল ইসলাম বলেন, ‘এ কী হয়ে গেল আমার! শুধু শাওনের কথা মনে পড়ছে।

নার্স শিমুল আক্তার ও বেসরকারি চাকরিজীবী তাজুলের দেড় যুগের সংসার। ঢাকার টঙ্গীর কলেজপাড়ায় তাদের বাসা। বড় ছেলে অয়ন ইসলামের বয়স ১৪ বছর। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে চার সদস্যের পরিবারের তিনজনই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়।

দুই সন্তান ও স্বামীকে নিজ কর্মস্থল কুর্মিটোলা হাসপাতালে ভর্তি করান শিমুল। স্বামী ও বড় ছেলে ডেঙ্গু ভাইরাস থেকে মুক্তি পেলেও শাওনকে বাঁচানো যায়নি। ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে সোমবার শাওনকে প্রথমে মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। একই সময় বড় ছেলে ওই হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন। এর মধ্যে হঠাৎ শাওনের শক সিমড্রোম দেখা দেয়। প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে চিকিৎসকরা তাকে পিআইসিইউতে নেওয়ার পরামর্শ দেন। কুর্মিটোলা হাসপাতালে পিআইসিইউ না থাকায় রাজধানীর আল-মানার হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে শাওনের অভ্যন্তরীণ রক্তপাত শুরু হয়। পরে সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানোর পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। বুধবার রাতে সেখানে নেওয়ার পথে মারা যায় শিশুটি।

শাওনের বাবা তাজুল ইসলাম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, এক সপ্তাহ আগে ডেঙ্গু থেকে সেরে উঠে বাসায় ফিরেছেন তিনি। বড় ছেলে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বৃহস্পতিবার বাসায় নিয়ে এসেছেন। তবে এখনও নানা জটিলতা রয়েছে। তিনি বলেন, ছেলেটা সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরতে চেয়েছিল। ফিরল লাশ হয়ে। ছেলের খেলনা, জামাকাপড়, বইপত্রসহ হাজার স্মৃতি ঘরে। আলিফ ইসলাম রাজধানীর একটি বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে প্রাক-প্রাথমিকে পড়ত।

কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক চিকিৎসক বলেন, আলিফের শরীরে অস্বাভাবিক জ্বর ছিল। সঙ্গে ডায়রিয়া দেখা দেয়। থেকে থেকে বমি ছিল। শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তাকে পিআইসিইউ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। শকে চলে যাওয়ায় তার শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ আস্তে আস্তে নিষ্ক্রিয় হতে থাকে।

শাওনের বাবা বলেন, চিকিৎসায় কোনো গাফিলতি ছিল কিনা, তা তো বলতে পারব না। হাসপাতালে নেওয়ার সময়ও ছেলে কথা বলেছে। বারবার জানতে চাইছিল, বাবা আমরা কোথায় যাচ্ছি, কবে বাসায় ফিরব। বলেছিলাম, ভয়ের কিছু নেই। কিন্তু ছেলেকে বাসায় ফিরিয়ে নিতে পারলাম না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here