Saturday, February 24, 2024
Homeস্পটলাইটরামুতে যুবলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন ২৬ নেতা

রামুতে যুবলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন ২৬ নেতা

শাহীন মাহমুদ রাসেল, কক্সবাজার: দীর্ঘ ২০ বছর পর কক্সবাজারের রামু উপজেলা যুবলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই সম্মেলন ঘিরে নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। এতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ পেতে মাঠে নেমেছেন এক ঝাঁক নেতা। ইতিমধ্যে যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক পদে ১জন এবং সাংগঠনিক পদে ২জনসহ মোট ২৯ জন নেতা ব্যক্তিগত সিভি জমা দিয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। সিভি জমা দেয়ার পর জেলাসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের ম্যানেজ করতে চলছে ব্যাপক তৎপরতা। কেউ কেউ কাঙ্ক্ষিত পদ বাগিয়ে নিতে অনেক আগে থেকে কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে আসছেন একাধিক সূত্র দাবি করেছে।

সংশ্লিষ্টদের সাথে যোগাযোগ করে জানা গেছে, এ দুটি পদ পেতে প্রকাশ্যে লড়াইয়ে মাঠে নেমেছেন ২৬ নেতা। এ দুটি পদের জন্য গত ১৫ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কক্সবাজার কার্যালয়ে সিভি জমা দেয়ার শেষ দিন ছিল। এতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে ২৬টি করে সিভি জমা পড়েছে কক্সবাজার আ.লীগ অফিসে। এ দুটি পদ প্রত্যাশীদের অধিকাংশ প্রার্থী ১৫ ফেব্রুয়ারি বিকালে সিভি জমা দিতে একসাথে আ.লীগ কার্যালয়ে যান। একসাথে একাধিক প্রার্থীর সিভি জমা দেওয়াকে রামু উপজেলা যুবলীগের রাজনীতির ইতিবাচক পরিবর্তন ও ভ্রাতৃত্বের অনন্য নিদর্শন হিসেবে দেখছেন নেতা-কর্মীরা।

তবে বিপরীত মন্তব্য করেও কেউ কেউ বলেছেন, এর মধ্যেও রয়েছে আরেক রাজনীতি। অধিকাংশ প্রার্থীর মতামত পক্ষে নিয়ে পদ বাগিয়ে নেয়ার পরিকল্পনায় দু-একজন নেতা আবার কাউকে কাউকে ডামি প্রার্থী করেছেন। প্রকৃতপক্ষে তারা সময় মত বলবেন- আমাকে না দিলেও অমুককে দেন। তাকে দিলে কোন আপত্তি নাই। দল ভালো চলবে।

যুবলীগের সাধারণ নেতা-কর্মীরা মনে করছেন, দুর্দিনে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে যারা সংগঠনের হাল ধরেছেন, জেল-জুলুম সহ্য করে সংগঠনের কার্যক্রম চালিয়ে নিয়ে গেছেন, যাদের পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি আছে- তাদেরই নতুন নেতৃত্বে আসা উচিত।

এদিকে সভাপতি পদে সিভি প্রদানকারীদের মধ্যে যাদের নাম নিশ্চিত হওয়া গেছে, তারা হলেন: জেলা যুবলীগের সাবেক শ্রম ও কর্মসংস্থান সম্পাদক পলক বড়ুয়া আপ্পু, রামু উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নীতিশ বড়ুয়া, জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কামাল শামশুদ্দিন আহমদ প্রিন্স, খুনিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল মাবুদ, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংস্কৃতিক সম্পাদক রজত বড়ুয়া রিকু, রামু উপজেলা যুবলীগ নেতা মাসুদুর রহমান, চট্টগ্রাম বিশ্ব বিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ- সম্পাদক রতন বড়ুয়া ও তারেক আহমদ।

আর সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থীর মধ্যে যাদের নাম নিশ্চিত হওয়া গেছে, তারা হলেন: রামু উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. সালাহ উদ্দিন, কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি মো. হেলাল উদ্দীন, রামু উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান ভূট্টো, রামু উপজেলা যুবলীগ নেতা নবীউল হক আরকান, খুনিয়াপালং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আহমুদুল করিম চৌধুরী রুবেল, রামু উপজেলা যুবলীগের সদস্য বিপুল বড়ুয়া আব্বু, কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য রাশেদ আলী, রামু উপজেলা বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদের সভাপতি একরামুল হাসান ইয়াছিন, রামু উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম হোসেন, জাতীয় শিশু কিশোর সংগঠন শেখ রাসেল এর রামু উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ফরহাদ, মো. মোয়াজ্জেম মোর্শেদ, নাহিদুল ইসলাম, ইমাম হোসেন ইমরান, আব্দুল শুক্কুর, হালিম রায়হান, মিজানুর রহমান, আজিজুল হক, আব্দুল্লাহ আল নোমান।

এছাড়া যুগ্ম-সম্পাদক পদে ইয়াছির আরাফাত, সাংগঠনিক পদে দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলাম জয় ও আবদুর রহিম জীবন-বৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন।

জেলা যুবলীগের তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সভাপতি-সম্পাদক পদে বর্তমান রামু উপজেলা যুবলীগের নেতারা ছাড়াও ছাত্রলীগের সাবেক কয়েক জন নেতার নাম আলোচনায় আছে। তারা এবারের কমিটিতে চমকের প্রত্যাশায় আছেন। আর কেন্দ্র থেকে তাদের জানানো হয়েছে, বিতর্কিত কাউকে এবার পদ দেওয়া হবে না।

প্রসঙ্গত, গত ১ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলের নির্দেশক্রমে দপ্তর সম্পাদক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে কক্সবাজারের ৫টি উপজেলা যুবলীগের সম্মেলনে তারিখ ঘোষণা করে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশীদের জীবনবৃত্তান্ত আহবান করা হয়।

এর আগে সম্মেলনে যোগ দিতে গতকাল বুধবার কক্সবাজারে পৌঁছেছেন কেন্দ্রীয় যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ ফজলে নাঈম ও সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাইফুর রহমান সোহাগ। সন্ধ্যায় কক্সবাজার প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে শেখ ফজলে নাঈম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সম্মেলন না হওয়ায় নেতা-কর্মীদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। মেধাবী অনেক নেতা-কর্মী রাজনীতি থেকে ছিটকে পড়ছেন। এখন নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি করতে সম্মেলন হচ্ছে। তাঁরা চান, সৎ ও যোগ্যরা দলের নেতৃত্বে আসুক। তবে চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী, দখলবাজ, দাগি অপরাধীদের কমিটিতে ঠাঁই হবে না। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কমিটি হবে। প্রধানমন্ত্রীর ২০৪১ ভিশন বাস্তবায়নে স্মার্ট নাগরিক তৈরিতে যুবলীগকে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০০২ সালের শেষ দিকে রিয়াজুল আলম (সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান) কে সভাপতি ও নীতিশ বড়ুয়াকে সাধারন সম্পাদক করে দুই সদস্য বিশিষ্ঠ রামু উপজেলা যুবলীগের কমিটি ঘোষনা করেন তৎকালীন জেলা যুবলীগের সভাপতি (বর্তমান জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক) খোরশেদ আলম এবং সাধারণ সম্পাদক (বর্তমান জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক) এ্যাডভোকেট রণজিত দাশ। এরপর ২০০৩ সালের ১ জুন পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেয় সেই সময়ের জেলা যুবলীগের সভাপতি- সাধারন সম্পাদক। এরপর কেটে গেছে ২০ বছর। এই সময়ে দু’ দফা জেলা যুবলীগের নতুন কমিটি হয়েছে। কিন্তু এই দীর্ঘ সময় ধরে বদলেনি রামু উপজেলা যুবলীগের কমিটি।

সভাপতি পদপ্রত্যাশী এক নেতা বলেন, দীর্ঘকাল রামু উপজেলা যুবলীগ প্রায় নিষ্ক্রিয় অবস্থায় ছিল। ওই কমিটির নেতা না হওয়া শর্তেও তিনি বিভিন্ন সময় রামু যুবলীগকে সুসংগঠিত ও গতিশীল করেছেন। পূর্বের থেকে যুবলীগ রামুতে অনেক শক্তিশালী। তাই এই সুসময়ে অনেকেই দলের বড় পদে যেতে আগ্রহী। অথচ দলের কর্মসূচিতে তাদের পাওয়া যায় না। তাই ওইসব সুবিধাবাদি নেতাদের কোন গুরুত্বপূর্ণ পদে না দিয়ে দলকে আরোও গতিশীল ও আগামী দিনে লড়াই সংগ্রামে যুবলীগকে মাঠে রাখতে মাঠের নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ পদ যেন না দেয়। সেই হিসেবে এবং তার বিগত সময়ের কাজের মূল্যায়ন করে তাকে সভাপতি পদ দেয়া হলে তিনি রামু উপজেলা যুবলীগকে আরোও বেশি শক্তিশালী ও গতিশীল করতে পারবেন বলে জানান।

সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী একজন ছাত্রলীগ কর্মী বলেন, শুধুমাত্র রাজনীতি করার কারণে বিভিন্ন সময়ে হামলা মামলার শিকার হয়েছেন। সুযোগ থাকা সত্বেও কোন চাকরি করেননি তিনি। দলের প্রতিটি কর্মসূচিতে আর্থিক অনুদান দেন এবং স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করেন। তাছাড়া ছাত্রলীগের রাজনীতিতে তার অনেক বড় অবদান রয়েছে। বিগত সময়ে দলের জন্য তার অবদানের কথা বিবেচনা করে সাধারণ সম্পাদক পদটি দিলে তিনি যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করে রামু যুবলীগকে মুজিব আদর্শে অনপ্রাণিত ও শক্তিশালী করতে সক্ষম হবেন।

সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী একাধিক নেতা বলেন, শুধুমাত্র রাজনীতি করার কারণে অসংখ্যবার হামলা মামলার শিকার হয়েছেন অনেকে। তারপরও মুজিব আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি তারা। ছাত্রলীগ নেতা থাকাকালেও পরবর্তী সময়ে সততা ও নিষ্ঠার সাথে মুজিব আদর্শের বাণী প্রচার করতে গিয়ে সুবিধাবাদী প্রতিপক্ষের আক্রোশের শিকার হয়ে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তারপরও ন্যায় নীতির সাথে মুজিব আদর্শ ধারণ করে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও ভালোবাসায় বিপুল ভোটের ব্যবধানে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন। সেখানেও অত্যন্ত সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছেন ও দলের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছেন।

তারা দাবী করেন, বিগত সময়ের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বিবেচনা করে তাদেরকে রামু উপজেলা যুবলীগের দায়ীত্ব দেয়া হলে তারা রামু উপজেলা যুবলীগের রাজনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনে দলের মধ্যকার গ্রুপিং ও নৈরাজ্যের নিরসন করে দলকে সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করতে সক্ষম হবেন।

সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী একজন জানান, কিছুদিন আগে কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতৃবৃন্দ নির্দেশে বর্ধিত সভায় উপস্থিত হয়ে সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি গঠনের লক্ষে সিভি আহবান করেন। সে হিসেবে সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য সিভি জমা দেয়া। বিগত সময়ে ছাত্রলীগের দায়িত্ব পালনে সফলতার কথা ভেবে ও পরবর্তী সময়ের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বিবেচনা করে পদটি দিলে রামু উপজেলা যুবলীগকে কেন্দ্রীয় নেতাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে নিয়ে যেতে পারবেন বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

জেলা যুবলীগের সভাপতি সোহেল আহমদ বাহাদুর জানান, শহর যুবলীগের সম্মেলন শেষে ১০ মার্চ রামু উপজেলা, ১১ মার্চ কুতুবদিয়া উপজেলা, ১২ মার্চ উখিয়া উপজেলা ও ১৩ মার্চ মহেশখালী উপজেলা যুবলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। যুবলীগকে তৃণমূল পর্যায়ে ঢেলে সাজাতে এ সম্মেলন ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, যুবলীগে কোনো মাদক বিক্রেতা বা সন্ত্রাসীদের জায়গা থাকবে না। আগামী সংসদ নির্বাচনে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে রামু উপজেলা যুবলীগের নতুন নেতৃতের নাম ঘোষণা করা হবে।

এফএস

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

Recent Comments