যেসব কথা বা কাজে শিরক হয়

0
182

ইসলাম ডেস্ক- শিরক অর্থ হচ্ছে- অংশীদার, ভিন্ন ভিন্ন ইলাহিতে বিশ্বাস হওয়া, মিশ্রণ, সংমিশ্রণ, একটি বস্তুর মালিকানায় দু’জনার অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠা করা। আল্লামা রাবেগ ইস্পাহানি রা: তাঁর ‘মুফরাদাত’ গ্রন্থে লিখেছেন, শিরকের অর্থ- দুই স্বত্বাধিকারের সংমিশ্রণ, সমকক্ষ স্থীর করা ইত্যাদি।

ইসলামী শরিয়তের পরিভাষায়- কোনো জিনিসকে আল্লাহর সত্তা, গুণ অথবা কোনো কর্মের সাথে অংশীদার সাব্যস্ত করাকে শিরক বলা হয়। অন্যভাবে বলা যায়- আল্লাহ তায়ালার সাথে অন্য কাউকে অংশীদার করাকে শিরক বলা হয়। আর মুশরিক অর্থ- যে আল্লাহর ক্ষমতায় অন্য কারো অংশীদারিত্ব সাব্যস্ত করল।

শিরকের প্রকারভেদ : শিরক প্রধানত দুই প্রকার- ১. শিরকে আকবর ২. শিরকে আসগর। আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে শরিক সাব্যস্ত করাকে শিরকে আকবর বলা হয়। আর ইবাদতের মধ্যে কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্য শামিল রাখা অথবা কোনো বিষয়ে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কিছুকে প্রভাবক জ্ঞান করা এবং প্রত্যেক প্রভাবের ধারণা রাখাকে শিরকে আসগর বলা হয়।

শিরকে আকবর :

সত্তাগত অংশীদারিত্ব : আল্লাহর সত্তা মতো কাউকে বা কোনো শক্তিকে মনে করা।

গুণাবলিতে শিরক : আল্লাহ তায়ালার গুণাবলির মতো অন্য কারো গুণাবলি আছে এ আকিদা পোষণ করা।

আইনগত অধিকারে কাউকে শরিক করা : সৃষ্টি জগতের পরিচালনায় আইন প্রণয়নের অধিকারে আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করা।

ইবাদতের মধ্যে আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করা : আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সা:-এর নাফরমানি করে কোনো মাখলুকের আনুগত্য করা।

আল্লাহর একত্ব বা তাওহিদের পর্যায়ে শিরক :

প্রতিপালনের শিরক : আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে সৃষ্টি বা প্রতিপালনের বিষয়ে আল্লাহর সাথে শরিক করা। যেমন আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো মধ্যে সৃষ্টি, সংসার, প্রতিপালন, রিজিক দান, জীবন দান, মৃত্যু দান, বিশ্ব পরিচালনা, মঙ্গল-অমঙ্গল ইত্যাদি ক্ষমতা আছে বলে বিশ্বাস করা।

নাম ও গুণাবলির শিরক : মহান আল্লাহর পূর্ণতার গুণাবলি ও মহাসম্মানিত পবিত্র নামগুলো রয়েছে। এসব গুণ বা নামের ক্ষেত্রে কোনো সৃষ্টিকে আল্লাহর সমকক্ষ বা আল্লাহর সাথে শরিক করা এ পর্যায়ের শিরক।

ইবাদতের শিরক : ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহ ছাড়া কাউকে আল্লাহর সমকক্ষ বলে বিশ্বাস করা বা আল্লাহ ছাড়া কারো ইবাদত করাকে ইবাদতের শিরক বলা হয়।

শিরকে আসগর : এ শ্রেণীর শিরক বেশির ভাগ সময় ইবাদত ও মুআমালা-এর ক্ষেত্রে সংঘটিত হয়। তবে এতে কোনো সময় বড় শিরকও পাওয়া যায়। এ শ্রেণীর শিরক মহাপাপ হলেও এটি প্রথম প্রকার শিরকের তুলনায় হালকা।

১. কথাগত শিরক : যা মুখের দ্বারা সংঘটিত হয়ে থাকে। যেমন-ক. ‘আল্লাহ এবং আপনি যা চান’। হজরত কুতাইলা রা: থেকে বর্ণিত- রাসূল সা: ইরশাদ করেন, মুসলিমদের মধ্যে যারা শপথ করতে চায়, তারা যেন বলে ‘কাবা ঘরের রবের শপথ’। আর যেন বলে- আল্লাহ যা চান, এরপর আপনি যা চান (নাসায়ি)।
খ. আল্লাহ ব্যতীত অন্য কিছুর নামে শপথ করা। রাসূল সা: ইরশাদ করেছেন- যে আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে শপথ করাল সে শিরক করল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here