মিরপুরে ব্যবসায়ীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ

0
84

রাজু আহমেদ,স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, ঢাকা: রাজধানীর মিরপুরে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে বাসার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষে মাথায় ইট দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে রফিকুল ইসলাম (৫১) নামে এক ব্যাক্তিকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

২৪ মে (বুধবার) দুপুর আনুমানিক পৌনে একটার দিকে মিরপুর মডেল থানাধীন পশ্চিম শেওড়াপাড়া একতা হাউজং এলাকায় এঘটনা ঘটে।

এঘটনায় আহত রফিকুল ইসলাম ঘটনার দিনই মোঃ মোখলেসুর রহমান (৫০),মাকসুুদুর রহমান(৩০),মশিউর রহমান (৩৩),হামিদা খাতুন (৫০),এসএম মকবুল হোসেন(২৪) ও রিজওয়ান হোসেন (২২) নামে মোট ছয়জনকে আসামী করে মিরপুর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

মিরপুর থানায় হামলার শিকার ভুক্তভোগী রফিকুল ইসলামের লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে,পশ্চিম শেওড়াপাড়া এলাকার একতা হাউজিংয়ের আবাবিল গার্ডেন নামক একটি ভবনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন যাবত বিবাদীদের সাথে তার বিরোধ চলে আসছিলো। ভুক্তভোগী রফিকুল ইসলাম আবাবিল ডেভলপার নামে একটি কোম্পানির মালিক।

অভিযুক্ত মোকলেসুর রহমানের সাথে ব্যবসায়িক চুক্তির ভিত্তিতে তার জমিতে আবাবিল গার্ডেন নামক ভবনটি নির্মাণ করেন এবং ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে পরিবারসহ বসবাস করে আসছেন। নির্মিত ভবন সংশ্লিষ্ট নানা বিষয়কে কেন্দ্র করে চলমান দ্বন্দ্বের পরিপ্রেক্ষিতে ২৪ মে দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে অভিযুক্ত মোখলেসুর রহমান তার ফ্ল্যাটের বৈদ্যুতিক মিটারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।এসময় ভুক্তভোগীর স্ত্রী শামীম আরা ভুইঁয়া (৪৮) প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা তাকে এলোপাথাড়ি কিল-ঘুষি মারতে থাকে। এসময় তারা আমার স্ত্রীর পরনের কাপড় টানাহেঁচড়ার সাথে সাথে তার শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। এসময় আমার স্ত্রীর ডাক চিৎকারে আমি এগিয়ে গেলে তারা আমাকেও এলোপাথাড়ি কিল ঘুষিসহ এলোপাথারি মারতে থাকে। এক পর্যায়ে মোখলেছুর রহমান ও তার ছেলে মাকসুদুর রহমান দুটি আস্ত ইট হাতে নিয়ে আমার মাথায় এলোপাথারি আঘাত করতে থাকে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী একই ভবনের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান নামে এক ব্যক্তি জানান, ডাক চিৎকার ও হইহুল্লোর শুনে আমি বাসার নিচে নেমে আসি। এ সময় মুখলেসুর রহমান ও মাকসুদুর ইট দিয়ে কয়েকটি আঘাত করলে ভুক্তভোগী রফিকুল ইসলাম রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পাশেই দাড়িয়ে রফিকুল ইসলামের ছেলে মোবাইলে ঘটনার ভিডিও ধারণ করছিলো। এসময় সেটি খেয়াল করতেই প্রচন্ড ক্ষুব্ধ মোখলেসুর রহমান ও তার ছেলে মাকসুদুর রহমান তাকেও কিল ঘুষি মারতে মারতে একপর্যায়ে তার হাতের মোবাইল ফোনটি কেড়ে নেন।

এ ঘটনা নিয়ে পরবর্তীতে কোনো প্রকার ঝামেলা কিংবা থানা পুলিশে অভিযোগ করলে তাদেরকে মেরে ফেলবে বলে হুমকি প্রদান করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এসময় আমিসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন দ্রুত আহত রফিকুল ইসলামকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে যাই। কর্তব্যরত চিকিৎসক তার মাথায় আটটি সেলাই ও প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে দ্রুত ঢাকা ডেন্টাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

হামলার শিকার ভুক্তভোগী রফিকুল ইসলামের শ্যালক মুক্তি আহমেদ জানান,হামলায় তিনি তার দাতে মারাত্মক আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন। সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল থেকে তাকে দ্রুত ঢাকা ডেন্টাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার এস.আই গোলাম কিবরিয়া জানান,২৪ মে দুপুর আনুমানিক পৌনে একটার দিকে ৯৯৯ এর একটি কল পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উপস্থিত প্রাথমিক তদন্তসাপেক্ষে বিস্তারিত জানতে চেষ্টা করি। এরপর রফিকুল ইসলাম এবং মোখলেছুর রহমান উভয় পক্ষই বাদী হয়ে থানায় আলাদা আলাদা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও বস্তুনিষ্ঠ সত্যতা যাচাই-বাছাই করতে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

এফএস

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here