বিমানে উঠে ভাইরাল হওয়া সেই জুনায়েদ এখন কক্সবাজারে

0
1227

কক্সবাজার প্রতিনিধি: পাসপোর্ট-বোর্ডিং পাস ছাড়াই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কুয়েতগামী বিমানে উঠে আলোচনায় আসা গোপালগঞ্জের শিশু জুনায়েদ মোল্লা (১২) এখন রীতিমতো ভাইরাল।

সেইবার নিরাপত্তা কর্মীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে বিমানের আসন পর্যন্ত যেতে পারলেও আকাশ থেকে পাখির চোখে পৃথিবী দেখার সুযোগ হয়নি তার। এবার এই শিশুর স্বপ্ন পূরণ করেছে ওয়ালটন প্লাজা। প্রতিষ্ঠানটির পৃষ্ঠপোষকতায় ঢাকা থেকে বিমানে করে পর্যটন শহর কক্সবাজার এসে ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ হয়েছে এই শিশুর।

বৃহস্পতিবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে একটি বিমানে চড়ে কক্সবাজার বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায় জুনায়েদ। এরপর কক্সবাজারের একটি অভিজাত হোটেলে রাখা হয় তাকে।

জুনায়েদ গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের পারইহাটি গ্রামের সবজি ব্যবসায়ী ইমরান মোল্লার ছেলে।

ওয়ালটন প্লাজার প্রতিনিধি তারেকুর রহমান বলেন, ওয়ালটন প্লাজা সব সময় স্বপ্নবাজদের পাশে থাকে। ছোট্ট শিশু বিমানে চড়ার জন্য নিরাপত্তাবেষ্টনী পেরিয়ে বিমানে উঠলেও চড়তে পারেনি। তার আক্ষেপের বিষয়টি ওয়ালটন প্লাজার নজরে আসলে সেই শিশুটির স্বপ্ন পূরণের জন্য বিমান যোগে ঢাকা থেকে কক্সবাজারে নিয়ে আসা হয় তাকে।

জুনায়েদ বলেন, নিরাপত্তা পেরিয়ে বিমানে উঠেছিলাম। কিন্তু আকাশে উড়তে পারিনি। অবশেষে আমার সেই স্বপ্ন পূরণ করেছে ওয়ালটন প্লাজা। তারা ঢাকা থেকে কক্সবাজারে বিমানে করে নিয়ে আসলেন। আমার খুবই ভালো লেগেছে। আমি ওয়ালটনের প্রতি কৃতজ্ঞ।

শিশুটি জানিয়েছে, একান্ত কৌতূহলবশত প্লেনে উঠেছে। তিন মাসে চারবার বাড়ি থেকে পালিয়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যায় সে। এর আগেও প্লেনে চড়তে ব্যর্থ হয়ে বাড়িতে ফিরে গেছে। এবার কৌশল পালটে বিমানবন্দরে ঢোকে শিশুটি। একটি পরিবারের সঙ্গে কথাবার্তার মাধ্যমে মিশে যায় সে। তাই কেউ ধরতে পারেনি যে ছেলেটি সেখানে একা কিংবা তার কাছে কোনো পাসপোর্ট বা বোর্ডিং পাশ নেই।

জুনায়েদের চাচা ইউসুফ মোল্লা বলেন, আমার ভাতিজার কারণে আমিও প্রথম বিমানে চড়তে পারলাম। ওয়ালটন আমাদের ঢাকা থেকে কক্সবাজার নিয়ে আসলো। আমার ভাতিজা জুনায়েদের স্বপ্ন পূরণ হলো। এ ছাড়া যে নিরাপত্তাকর্মীদের চাকরি চলে গেছে, তাদের চাকরি যেন তারা ফিরে পায় সরকারের কাছে এই আবেদন জানাই।

কক্সবাজার বিমানবন্দরে নিরাপত্তায় দায়িত্বে থাকা ৮ আমর্ড পুলিশের অধিনায়ক অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ আমির জাফর বলেন, দুপুর ১টার দিকে নভোএয়ার এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে শিশু জুনায়েদ কক্সবাজার বিমানবন্দরে অবতরণ করে। পরে তাকে ওয়ালটন গ্রুপের প্রধিনিধিরা রিসিভ করেন। আমাদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা গ্রহণ করা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, গত ১২ সেপ্টেম্বর পাসপোর্ট কিংবা বোর্ডিং পাস ছাড়াই নয়টি নিরাপত্তা স্তর ফাঁকি দিয়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কুয়েত এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে উঠে প্রায় আধা ঘণ্টা বসে থাকে জুনায়েদ। কেবিন ক্রু তাকে সিটে বসতে দিলেও পরে তার কাছে ভিসা-পাসপোর্ট পাওয়া না গেলে অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটি তাকে বিমান থেকে নামিয়ে পুলিশের জিম্মায় দেয়। এনিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। ঢেলে সাজানো হয় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

এফএস

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here