ফখরুলকে সরকার পতনের স্বপ্নের নেশা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান নানকের

0
303

মানুষের জন্য ডেস্ক: বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ক্ষমতাসীন সরকারকে পতন করার স্বপ্নের নেশা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে (আইইবি) ঢাকা কেন্দ্র ও ইআরসির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন।

বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুলের উদ্দেশে জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘তিনি আজকে বলেছেন এই সরকার জনবিচ্ছিন্ন সরকার, এই সরকার দমন-নিপীড়ন করছেন? মির্জা ফখরুল সাহেব অনুরোধ করব-আপনাদের এই স্বপ্ন থেকে, স্বপ্নের নেশা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এই সরকারের ৪২ দিনের মাথায় বিডিআর বিদ্রোহের মতো ষড়যন্ত্র করে সরকারকে উৎখাত করা যায় নাই। এই সরকারকে শাপলা চত্বরে উগ্রবাদী-মৌলবাদীদের জমায়েত করে ভেবেছিলেন পরের দিন সকাল বেলা শেখ হাসিনার সরকার আর এই দেশে থাকবে না, কিন্তু সরকার উৎখাত করা যায় নাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছেন। আর জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছেন বলেই জনগণের ওপর জীঘাংসার প্রতিরোধ নেওয়ার জন্য দেশ করোনায় আক্রান্ত হলেও আপনারা একটি বার এক ছটাক চাল নিয়েও মানুষের দরজায় গেলেন না। একটি রাজনৈতিক দল হিসাবে কি দায়িত্ব পালন করেছেন?’

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘বক্তৃতা করলাম, বিবৃতি দিলাম কিন্তু এমন একটি দল তৈরি করতে হবে, আমরা যে যেই সংগঠনই করি না কেন সেই সংগঠনগুলোকে শক্তিশালি করতে হবে। মডারেট করতে হবে। আদর্শবাদী সংগঠনে পরিণত করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘ষড়যন্ত্র আছে, ষড়যন্ত্র থাকবে। সেই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ার একমাত্র শক্তিই হলো সংগঠন। তাই আমরা যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারি তেমন মানসিকতা নিয়ে আদর্শবাদী দল হিসেবে, আদর্শিক চিন্তার কর্মী হিসেবে দল করতে হবে।’

১৫ আগস্ট জাতির পিতার হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গ তুলে সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সেদিন যারা পাকিস্তানের সাথে কনফেডারেশন তৈরি করতে চেয়েছিল, যারা মুক্তিযুদ্ধকে বিভ্রান্ত করতে চেয়েছিল, যারা মুক্তিযুদ্ধকে দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করেছিল, সেই আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে লুকিয়ে থাকা খুনি মোশতাক এবং পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের এজেন্ট জেনারেল জিয়ার মতো মানুষেরা।’

স্বাধীনতা পরবর্তীতে বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে নানামুখী ষড়যন্ত্রের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন নানক। তিনি বলেন, ‘দুঃখজনক হলেও সত্য সাড়ে তিন বছরে বঙ্গবন্ধুকে এক দিনের জন্যও শান্তিতে থাকতে দেয়নি। মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরা যখন বাঙ্কারে যুদ্ধ করছি সেই যুদ্ধকে যারা দুই কুকুরের লড়াই হিসাবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেছিলেন, সেই তারা।’

আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ এই নেতা বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধারা যখন বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়ার কাজে ব্যস্ত তখন সেই মুক্তিযুদ্ধের শক্তির মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করা হয় বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের নামে সিরাজুল আলম খানের নেতৃত্বে। যার মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের চিন্তাচেতনাকে বিভক্ত করা হয়। মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে বিভক্তি করে গণবাহিনী সৃষ্টি করা হয়েছিল। ইতিহাসের এই দায় এড়ানোর জন্য জাসদের নেতৃবৃন্দের কোনো যুক্তি ধোপে টিকবে না।’ ১৫ আগস্ট বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে পাকিস্তানকে খুশি করার জন্য মিথ্যা জন্মদিন পালনের উৎসব করে বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

আইইবি’র প্রেসিডেন্ট মো. নূরুল হুদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন-আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. মুরাদ হাসান, আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ও আইইবি’র সাবেক প্রেসিডেন্ট মো. আবদুস সবুর প্রমুখ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here