ফকির মোহাম্মদসহ চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের মুক্ত করে দিলো তালেবান

0
379

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- আফগানিস্তান দখলের পর তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান-টিটিপি’র বেশ কয়েকজন চিহ্নিত সন্ত্রাসীকে কারাগার থেকে মুক্তি দিয়েছে তালেবান। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত নাম মাওলানা ফকির মোহাম্মদ। যিনি টিটিপির সাবেক উপপ্রধান।

পাকিস্তানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সামা নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফকির মোহাম্মদ আল কায়েদা প্রধান আয়মান আল জাওয়াহিরির সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকার কথা স্বীকার করেছিলেন।

আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর দেশটির কারাগার থেকে বিপুল সংখ্যক তালেবানকে মুক্ত করে দেয় সশস্ত্র এই গোষ্ঠীটি। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন তালেবান কমান্ডার রয়েছেন। এরা হলেন- ওয়াকাস মেহসুদ, হামজা মেহসুদ, জারকাউই মেহসুদ, জয়তুল্লাহ মেহসুদ, ক্বারী হামিদুল্লাহ মেহসুদ, হামিদ মেহসুদ এবং মাজহার মেহসুদ।

স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, তালেবানরা এখনো পর্যন্ত আফগানিস্তানের উজিরিস্তান, সারগোধা, সোয়াত এবং বাজৌর কারাগার থেকে টিটিপি’র অন্তত ২,৩০০ সদস্যকে ছেড়ে দিয়েছে। যাদের মধ্যে সংগঠনটির অনেক প্রভাবশালী কমান্ডার ও নেতারাও রয়েছেন।

তালেবান একদিকে সন্ত্রাসীদের ছেড়ে দিচ্ছে, অন্যদিকে আলোচনাও চালিয়ে যাচ্ছে। গোষ্ঠীটির রাজনৈতিক কার্যালয়ের সদস্য আনাস হাক্কানি গতকাল বুধবার কাবুলে আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই এবং অন্যতম শীর্ষ রাজনৈতিক আবদুল্লাহ আবদুল্লাহর সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

উল্লেখ্য, ১৯৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত আফগানিস্তান শাসন করেছিলো তালেবান। সেসময় দেশে কঠোর শরীয়া আইন জারি করেছিল তারা। যেখানে হত্যার পরিবর্তে হত্যা, বিবাহবহির্ভূত শারীরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে চাবুক মারা এবং চুরির অপরাধে হাত কেটে দেওয়ার মতো কঠোর আইন প্রবর্তন করা হয়েছিলো।

এ ছাড়া সেসময় ব্যক্তি স্বাধীনতায়ও মারাত্মক আঘাত হেনেছিলো তালেবান৷ তখন পুরুষদের দাড়ি রাখা আর নারীদের বোরকা পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছিলো। কেউ এই নিয়ম ভঙ্গ করলে তাকে পেতে হতো কঠোর শাস্তি। দুই দশক পরে আবারও দেশটির ক্ষমতায় যাচ্ছে তালেবান। ফলে আফগানরা শঙ্কা করছেন, আবারো তাদের ওপর কঠোর শরিয়া আইন জারি করবে এই গোষ্ঠীটি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here