পুলিশের কাছ থেকে আসামি ছিনিয়ে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা

0
557

চট্টগ্রামের রাউজান থেকে অপহৃত কলেজছাত্র শিবলি সাদিক আল সাদিক ওরফে হৃদয়ের (১৯) কংকাল উদ্ধার করে ফেরার পথে হামলার শিকার হয়েছে পুলিশ। এ সময় পুলিশের কাছ থেকে হৃদয় অপহরণ মামলার আসামি উমং চিং মারমাকে ছিনিয়ে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে উত্তেজিত জনতা। এ সময় পুলিশে দুটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় অন্তত ৮ পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন।

আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে রাউজান উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের রওশন আল কেরানীর বাড়িসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এর আগে রাউজানের পার্শ্ববর্তী উপজেলা রাঙামাটির কাউখালির কদলপুর ইউনিয়নের গহীন পাহাড় থেকে হৃদয়ের কংকাল উদ্ধার করা হয়।

আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন- রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল হারুন (৪২), পরিদর্শক (তদন্ত) সিদ্দিকুর রহমান (৪৫), থানার সেকেন্ড অফিসার অজয় দেব শীল (৩৫), উপপরিদর্শক (এসআই) কানু লাল অধিকারী (৪১), এসআই শাহাদাত হোসেন (৩১), এসআই কিশোর কুমার দে (৩৩) এসআই জসিম (৫৫), এসআই আজিজুল হাকিম (২৯) ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শাহিদুল (৩৬)।

পুলিশের ওপর হামলা ও আসামি কেড়ে নিয়ে গণপিটুনির ভিডিও ধারণ করার সময় আমাদের সময়’র রাউজান প্রতিনিধি মো. হাবিবুর রহমানের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ধাওয়া করে উত্তেজিত জনতা। সুত্র: আমাদের সময়।

পুলিশ, নিহতের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত ২৮ আগস্ট রাত ১০টায় রাউজান উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের ইলিয়াছ পোল্ট্রি ফার্ম থেকে ওই কলেজছাত্র নিখোঁজ হন। তিনি কদলপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্র এবং ওই পোল্ট্রি ফার্মের ম্যানেজারের দায়িত্বে ছিলেন। সেখানে আরও কয়েকজন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর লোক কাজ করতেন।

নিখোঁজের পর কলেজছাত্রের বাবার কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে মুক্তিপণ বাবদ ২ লাখ টাকা পরিশোধ করেন নিখোঁজ হৃদয়ের বাবা। মুক্তিপণ দিয়েও হৃদয়ের মুক্তি না মেলায় মুক্তিপণ নেওয়া যুবক ও অপহরণে জড়িত সন্দেহে আরও ৬ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন নিখোঁজ হৃদয়ের মা নাহিদা আকতার।

পরে মামলার দুই আসামি বেতবুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৬ নম্বর ওয়ার্ডের উমংচিং মারমা (২৬) ও কাপ্তাই থানার চিৎমরং ইউপির ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আমতলী পাড়ার ঊক্যথোয়াই মারমাকে (১৯) জেলার কাউখালী উপজেলার ভিন্ন স্থান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত উমংচিং মারমার স্বীকারোক্তি অনুসারে পাহাড় থেকে নিখোঁজ হৃদয়ের কংকাল উদ্ধার করে পুলিশ।

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল হারুন বলেন, ‘গতকাল রবিবার মামলার ১ নম্বর আসামি উমং চিং মারমাকে আটক করি। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী আমরা ২৫ জন পুলিশ সদস্য নিয়ে আজ সোমবার ভোরে কদলপুর-রাঙ্গুনিয়া সীমান্তবর্তী দলুছড়ি পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালাই। পাহাড় থেকে অপহৃত কলেজছাত্রের কংকাল উদ্ধার করা হয়।

ওসি বলেন, ‘এ সময় আমাদের সঙ্গে থাকা মামলার ১ নম্বর আসামিকে দেখে স্থানীয় কয়েক শ জনতা উত্তেজিত হয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়। আমাদের হাত থেকে আসামিকে ছিনিয়ে নিয়ে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করে। আমাদের দুটি গাড়ি ভাংচুর করা হয়।’

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় অন্তত ১০ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তারা রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here