তিস্তার ভাঙনে দুই পাড়ের মানুষ বিপর্যস্ত

0
297

মানুষের জন্য ডেস্ক: এ বছর তেমন বৃষ্টি ও বন্যা না থাকলেও কুড়িগ্রামে তিস্তার পানিতে নদীপাড় ভাঙনে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে মানুষ।

প্রায় গত এক মাস ধরে ভাঙন অব্যাহত থাকলেও সরকারি তেমন পদক্ষেপ না থাকায় হতাশ হয়ে পড়েছে নদীর অববাহিকায় বসবাসকারীরা।

স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, তিস্তা নিয়ে সরকারের মহাপরিকল্পার কারণে বর্তমানে ভাঙন রোধে কোনো প্রকল্প চলমান নেই। তিস্তার ভাঙন রোধে মেগা প্রকল্প অনুমোদন হলে স্থায়ী ভাঙন রোধে কাজ শুরু হবে। তবে এই মুহূর্তে গুরুত্বপুর্ণ এলাকাগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা চলছে।

কুড়িগ্রাম জেলার ওপর দিয়ে প্রায় ৪০ কিলোমিটার এলাকাব্যাপী তিস্তা নদী প্রবাহিত হয়েছে। চলতি বছর বর্ষার শুরু থেকেই উজানের ঢলে পানি সামান্য বাড়া-কমার সঙ্গে সঙ্গে ভয়াল মূর্তি ধারণ করেছে এই নদী। গত এক মাসের ভাঙনে তিস্তার অববাহিকার উলিপুর, রাজারহাট ও চিলমারী উপজেলার গড়াই পিয়ার, খেতাবখাঁ, গতিয়াসাম, বুড়িরহাট, কালিরহাট, ডাংরারহাট, কাশিমবাজারসহ অন্তত ৩০টি অংশে প্রায় পাঁচ শতাধিক ঘর-বাড়ি ও আবাদী জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে পড়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদসহ সরকারি-বেসরকারি নানা স্থাপনা।

উলিপুর উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের গড়াই পিয়ার গ্রামে তিস্তাপাড়ের মজিদ মিয়া জানান, গত এক মাসে গড়াই পিয়ার এলাকার ৩টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২টি ওয়ার্ড তিস্তার গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। প্রায় ৮০টি পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে পার্শ্ববর্তী বিদ্যালয় মাঠ ও খোলা আকাশের নীচে বসবাস করছে।

একই এলাকার আমেনা বেগম বলেন, ‘তিস্তার ওপাড়ে আমার বাড়ি ছিল। সেই বাড়ি নদী ভাঙার পর এখানে বাড়ি করেছি। এই বাড়িও ভেঙ্গে গেছে। এখন কোথায় যাবো জানি না। স্বামী দিনমজুরের কাজ করে। কোথাও যে একটু জায়গা কিনে বাড়ি করবো সে উপায়ও নাই।’

চিলমারী উপজেলার কাশিমবাজার এলাকার আব্দুল হামিদ জানান, অবিলম্বে যদি এই তিস্তার ভাঙন বন্ধ করা না হয় তাহলে এই বর্ষা মৌসুমে আরও শতশত পরিবার তাদের ঘর-বাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়বে।

বিভিন্ন স্থাপনাসহ তিস্তা পাড়ের মানুষের ঘর-বাড়ি ও ফসলি জমি রক্ষায় স্থায়ী ভাঙন রোধে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানান ভুক্তভোগীদের।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম জানান, জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত ব্রহ্মপুত্র ও ধরলার ভাঙন রোধে বিভিন্ন প্রকল্প চলমান থাকায় সেখানে ভাঙন কম থাকলেও তিস্তা নিয়ে সরকারের মহাপরিকল্পনা থাকায় এই মুহূর্তে তিস্তায় কোনো প্রকল্প চলমান নেই। তবে ভাঙন কবলিত এলাকাগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে ফেলানো হচ্ছে জিও ব্যাগ। তিস্তা নিয়ে প্রক্রিয়াধীন মেগা প্রকল্প অনুমোদন হলে স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধ করা সম্ভব হবে। তখন তিস্তার পাড়ের মানুষ ভাঙন ও বন্যার হাত থেকে রক্ষা পাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here