কোভিড সুরক্ষায় টিকা চান শ্রমিকরা, প্রস্তুত কারখানা কর্তৃপক্ষ

0
384

মানুষের জন্য ডেস্ক: গাজীপুরে তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ করেন লাখ লাখ শ্রমিক। তাদের সুরক্ষায় ভোটার আইডি কার্ড দেখিয়ে করোনার টিকাদান কর্মসূচির উদ্যোগ নেয় সরকার। ঈদের আগে বেশ কয়েকটি কারখানায় দেওয়া হয় টিকা। কিন্তু ঈদের পর বন্ধ রয়েছে এই কর্মূসচি। এ অবস্থায় নিজেদের সুরক্ষায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করোনা টিকা চাইছেন শ্রমিকরা। কারখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শ্রমিকদের টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নে তারাও প্রস্তুত রয়েছেন। তবে কবে নাগাদ পোশাকখাতে ফের টিকাদান শুরু হবে তার দিনক্ষণ জানাতে পারেনি জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, টিকা প্রাপ্তি সাপেক্ষে ফের টিকাদান চালু হবে।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভোগড়া বাসন সড়ক এলাকার আমেলা টেক্সটাইল কারখানা। মাঝারি মানের এই কারখানায় সকাল থেকে গাদাগাদি করে প্রবেশ করছেন শত শত শ্রমিক। অনেক শ্রমিক ও কারখানা কর্মকর্তার মুখে নেই মাস্ক, মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। জেলার বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা এমন শত শত মাঝারি ও ছোট কারখানায় কাজ করছেন লাখ লাখ শ্রমিক। করোনা মোকাবিলায় এসব কারখানায় নেই তেমন স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাই। মানা হচ্ছে না সামাজিক দূরত্ব। ফলে সংক্রমণ ঝুঁকিতে রয়েছেন শ্রমিকরা।

শ্রমিকরা বলছেন, কারখানায় কাজ করতে গিয়ে তারা পরিবহনে গাদাগাদি করে আসছেন, কারখানায় প্রবেশ করছেন। বেশির ভাগ কারখানায় ভেতরে স্বাস্থ্যবিধি মানলেও অনেক কারখানায় মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। তাই নিজেদের সুরক্ষা ও কারখানায় উৎপাদন সচল রাখতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা চান তারা।

দিগন্ত সোয়েটার কারখানার লিংকিং সেকশনের শ্রমিক জুয়েল মিয়া জানান, আমরা এক সঙ্গে সবাই মিলে কাজ করি। আমাদের আগে টিকা দিলে অনেক ভালো হয়। কাজ করতে গিয়ে শ্রমিকরা ঝুঁকিতে আছে দাবি করে কল্পনা আক্তার নামে একজন নারী শ্রমিক জানান, টিকা দিলে আমাদের অনেক সমস্যার সমাধান হবে। টিকাটা আমাদের অধিকার, এই অধিকার আমরা চাই। টিকা দেওয়ার জন্য কারখানা মালিক আমাদের ভোটার আইডি কার্ড নিছেন। কিন্তু এখনো আমরা টিকা পাই নাই।

সবাই একসঙ্গে গাদাগাদি করে কারখানায় যাই, আমাদের স্বাস্থ্যবিধি মানা সম্ভব হয় না দাবি করে কারখানার শ্রমিক সুজন জানান, কারখানায় আমাদের ঝুঁকি আছে। এই ঝুঁকি কমানোর জন্য আমাদের টিকা প্রয়োজন। এজন্য আমরা টিকা নিতে আগ্রহী। কিন্তু টিকাতো এখন পাওয়া যাচ্ছে না।

শিল্প পুলিশের দেওয়া হিসাব মতে, গাজীপুরে ছোট-বড় মিলিয়ে ২ হাজার ৭২টি তৈরি পোশাক কারখানা রয়েছে। তার মধ্যে ৪টি কারখানার প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক ঈদের আগে টিকা পেয়েছেন। ইতোমধ্যে শ্রমিকদের টিকা দিতে ৫ শতাধিক পোশাক কারখানা কর্তৃপক্ষ জেলার সিভিল সার্জন কার্যালয়ে আবেদন করেছেন। কারখানা মালিকরা বলছেন, করোনায় তৈরি পোশাকখাতে অনেক ক্ষতি হয়েছে। এমন বাস্তবতায় প্রধানমন্ত্রী অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শ্রমিক কর্মকর্তাদের টিকা দানের উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসনীয়। টিকা দেওয়ার জন্য কারখানাগুলোতে প্রশিক্ষণ, লোকবলসহ সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। অর্থনীতি সচল রাখতে তাই দ্রুত টিকাদান কর্মসূচি চালুর প্রয়োজন।

এ বিষয়ে স্টাইলিশ গার্মেন্টস লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. সালাহউদ্দিন চৌধুরী জানান, ৮০ শতাংশ বৈদেশিক মুদ্রা আসে গার্মেন্টস খাত থেকে। প্রধানমন্ত্রী বরাবরই এ শিল্পের প্রতি আগ্রহী। আমার এখন অর্ডার পাচ্ছি, ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। কিন্তু আমাদের প্রতিষ্ঠান যদি আবার বন্ধ হয়, লকডাউনের শিকার হয় তবে আমরা বাঁচব না। শ্রমিকরা যেন নির্বিঘ্নে কারখানায় কাজ করতে পারে, আসা যাওয়া করতে পারে সেজন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকার ব্যবস্থা করতে হবে। ৪০-৪৫ লাখ শ্রমিক কর্মচারীর জন্য আমরা সরকারের কাছে টিকা চেয়েছি, বিদেশী বায়ারদের কাছেও টিকা চাওয়া হয়েছে। আমাদের যেন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকাগুলো দেয়া হয়।

টিকাদানের প্রস্তুতির বিষয়ে তিনি জানান, শ্রমিকদের আইডি কার্ড সংগ্রহ করে কারখানাগুলো আবেদন করেছে। প্রতিটি কারখানায় প্রশিক্ষিত ডাক্তার ও নার্স রয়েছে। টিকার ব্যবস্থা হলে টিকাদানের ক্ষেত্রে কোন সমস্যা হবে না। নির্বিঘ্নে সবাইকে টিকা দেওয়া যাবে।

গাজীপুর স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, বিপুলসংখ্যক শ্রমিককে টিকা দিতে অনেক জনবল দরকার। যেসব কারখানায় ৫০০ বা তার কাছাকাছি শ্রমিক আছেন, তাদের টিকার জন্য একটি নির্দিষ্ট তারিখ থাকবে। ওই দিন একটি খোলা স্থানে বুথ ও বিশ্রামের ব্যবস্থা করা হবে। আর যেসব কারখানায় এক হাজার বা তার বেশি শ্রমিক আছেন, সেসব কারখানার নিজস্ব স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে গাজীপুরের স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীদের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। তারা শ্রমিকদের টিকা দেবেন। কারখানা কর্তৃপক্ষ নিজ দায়িত্বে বুথ ও শ্রমিকদের বিশ্রামের ব্যবস্থা করবেন।

এ বিষয়ে গাজীপুরের সিভিল সার্জন মো. খায়রুজ্জামান জানিয়েছেন, ঈদের আগে প্রায় ২০ হাজার শ্রমিকদের করোনার প্রথম ডোজ দেয়া হয়েছে। কয়েকদিনে মধ্যে তাদের দ্বিতীয় ডোজ দেয়া হবে। অপর কারখানাগুলোতে টিকার জন্য নিবন্ধন করতে হবে। তবে সেটি শ্রমিকেরা না করে কারখানা কর্তৃপক্ষ করবে। ইতিমধ্যে ৫ শতাধিক কারখানা টিকা নেয়ার জন্য আবেদন করেছে। টিকা প্রাপ্তি সাপেক্ষে দ্রুত শ্রমিকদের মধ্যে টিকাদান কর্মসূচি চালু করা হবে।

গাজীপুর সিটি এলাকায় কাজ করেন অন্তত ২৫ লাখ শ্রমিক। অর্থনীতি সচলে ভূমিকা রয়েছে কর্মরত এসব শ্রমিকদের। তাই তাদের সুরক্ষায় অগ্রাধিকার দিতে সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছেন বিজিএমইএসহ পোশাক মালিক সংগঠনের নেতারা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here