ই-অরেঞ্জে অভিযান, ১৩ লাখ টাকার ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগে মামলা

0
391

মানুষের জন্য ডেস্ক: অনলাইন শপিং প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জে অভিযান চালিয়েছে ভ্যাট নিরীক্ষা গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিপ্তর। এ সময় ১৩ লাখ টাকার ভ্যাট ফাঁকির তথ্য উদঘাটন করেছেন তারা। পরে ভ্যাট আইনে তাদের নামে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান। তিনি জানান, রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত ই-অরেঞ্জ অনলাইন শপিং প্রতিষ্ঠানের অফিসে অভিযান চালিয়ে ১৩ লাখ টাকার ভ্যাট ফাঁকি উদঘাটন করেছে ভ্যাট গোয়েন্দারা। ভ্যাট ফাঁকির প্রমাণ পাওয়ায় আজই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ভ্যাট আইনে মামলা করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, প্রতিষ্ঠানটির গুলশান-১ এর কার্যালয়ে অভিযান চালায় ভ্যাট গোয়েন্দারা। ই-অরেঞ্জ অনলাইন প্লাটফর্মে বিভিন্ন পণ্য বিক্রয় করে কিন্তু তাদের প্রাপ্ত কমিশনের ওপর আরোপণীয় ভ্যাট যথাযথভাবে জমা প্রদান করে না।

প্রতিষ্ঠানটি বিপুল পরিমাণ সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে আসছে মর্মে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে গত ৮ জুন ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তর উপ-পরিচালক তানভীর আহমেদের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে প্রতিষ্ঠানের স্বত্ত্বাধিকারী সোনিয়া মেহজাবিনের সহযোগিতা করেন এবং তিনি প্রতিষ্ঠানটির ভ্যাট সংশ্লিষ্ট দলিলাদি উপস্থাপন করেন। এছাড়া প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন স্থানে তল্লাশী করে হিসাব বিবরণী জব্দ করা হয়।

এতে দেখা যায় প্রতিষ্ঠানটি একটি নির্দিষ্ট মেয়াদে মোট প্রতিষ্ঠানটি একটি নির্দিষ্ট মেয়াদে মোট ২৪৫ কোটি ৭৫ লাখ ৫৩ হাজার ২১৫ টাকার সেবা ও পণ্য ক্রয় করে। আর ২৪৯ কোটি ৬৩ লাখ ৪৭ হাজার ৭১০ টাকার সেবা/পণ্য বিক্রয় করে। যেখান থেকে ই-অরেঞ্জের কমিশন আসে ৩ কোটি ৮৭ লাখ ৯৮ হাজার ৪৯৫ টাকা। প্রাপ্ত কমিশনের ওপর ৫ শতাংশ হারে মোট ভ্যাটের পরিমাণ ১৯ লাখ ৩৯ হাজার ৯২৫ টাকা প্রযোজ্য হলেও প্রতিষ্ঠানটি মাত্র ৬ লাখ ২৩ হাজার ৭৬৭ টাকা পরিশোধ করেছে। অর্থাৎ অনলাইন শপিং প্রতিষ্ঠানটি প্রকৃত বিক্রয় তথ্য গোপন করে সরকারের ১৩ লাখ ১৬ হাজার ১৫৮ টাকা ভ্যাট ফাঁকি হয়েছে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়. অনলাইন শপিং প্রতিষ্ঠানটি প্রকৃত বিক্রয় তথ্য গোপন করেছে। এতে সরকারের ১৩ লাখ ১৬ হাজার ১৫৮ টাকা ভ্যাট ফাঁকি হয়েছে।

অভিযানে প্রাপ্ত ই-অরেঞ্জ কর্তৃক পরিহারকৃত ভ্যাট আদায় ও অন্যান্য আইনানুগ পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের জন্য মামলার প্রতিবেদন এখতিয়ারাধীন কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, ঢাকা উত্তরে প্রেরণ করা হয়েছে। একইসঙ্গে প্রতিষ্ঠানের সার্বিক কার্যক্রম আরো নজরদারি ও তদন্ত করার জন্যও অনুরোধ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here