ইনশাআল্লাহ, দেশ সংকটে পড়বে না: প্রধানমন্ত্রী

0
160

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তার সরকার প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছে। কিন্তু আজ যুদ্ধের কারণে বিশ্বের প্রতিটি দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মুদ্রাস্ফীতি ও লোডশেডিংয়ের কারণে দেশের মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। কোভিড-১৯ মহামারি, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ এবং নিষেধাজ্ঞা-পাল্টা নিষেধাজ্ঞার কারণে বিশ্বজুড়ে প্রতিটি পণ্যের দাম বেড়েছে। টাকা দিয়েও এখন আর তা (গ্যাস-তেল-কয়লা) কেনা সম্ভব নয়।

আজ রোববার চিলাহাটি-ঢাকা-চিলাহাটি রুটে নতুন আন্তঃনগর ট্রেন ‘চিলাহাটি এক্সপ্রেস’ট্রেনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন। শেখ হাসিনা গণভবন থেকে নীলফামারীর চিলাহাটি রেলস্টেশনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যোগ দেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি জানি মানুষ কয়েকটি সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। একদিকে মুদ্রাস্ফীতি অন্যদিকে লোডশেডিং- এই দুটি সমস্যায় আমার দেশের মানুষ ভুগছে। কেউ যদি বৈদ্যুতিক পাখায় অভ্যস্ত হয়ে পড়ে, তবে এটি ছাড়া থাকা তার পক্ষে কষ্টকর হয়ে পড়ে। যদি যুদ্ধ না হতো এবং এর কারণে নিষেধাজ্ঞা না থাকত- তাহলে দেশ এ ধরনের কোনো অসুবিধার সম্মুখীন হত না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারতাম। আজ, যুদ্ধের কারণে, বিশ্বের প্রতিটি দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বাংলাদেশ এখনো সংকটের মধ্যে পড়েনি। ইনশাআল্লাহ, দেশ এমন পরিস্থিতিতে পড়বে না। খবর: বাসস।

তিনি বলেন, ‘আমরা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকার বাজেট দিয়েছি। আমরা এই বাজেট বাস্তবায়ন করতে দৃঢ়-প্রতিজ্ঞ। আমরা এটি বাস্তবায়ন করতে পারি এবং আওয়ামী লীগ তা করতে পারে।

শেখ হাসিনা বলেন, একদল লোক দেশে পর্যাপ্ত সংখ্যক টেলিভিশন চ্যানেল থাকায় এর অপব্যবহার করছে। আওয়ামী সরকারই বেসরকারি খাতে যেগুলোর লাইসেন্স দিয়েছে, সরকার যাই করুক না কেন, তারা এসি রুমে বসে সরকারের সব কাজের সমালোচনা করে। তারা দেশের জনগণকে হতাশ করার জন্য এবং বিদেশিদের সামনে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কিছু কথাও ছড়িয়ে দেয়।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘তারা এ থেকে কী পায়- আমি জানি না। তারা সম্ভবত কিছু হাদিয়া (টাকা) সংগ্রহ করে থাকতে পারে-আমি আসলে বলতে পারব না। তবে, তারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কথা বলে তৃপ্তি পায়।’

তিনি বলেন, ‘কোভিড-১৯ মহামারি, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ এবং নিষেধাজ্ঞা-পাল্টা নিষেধাজ্ঞার কারণে বিশ্বজুড়ে প্রতিটি পণ্যের দাম বেড়েছে। বাংলাদেশ অন্য দেশ থেকে জ্বালানি তেল, গ্যাস, খাদ্যসামগ্রী, গম ও চিনিসহ অন্যান্য পণ্য আমদানি করছে। তার দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবহন খরচ বৃদ্ধি করা হয়েছে- যা দেশের অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। আমরা পরিস্থিতি সামাল দিতে কিছু উদ্যোগ নিয়েছি।’

৮০০ যাত্রী ধারণক্ষমতা সম্পন্ন আন্তঃনগর ট্রেন ‘চিলাহাটি এক্সপ্রেস’ সপ্তাহে ছয় দিন এই রুটে চলাচল করবে। চিলাহাটি রেলওয়ে স্টেশন একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল। কারণ, হলদিবাড়ি-চিলাহাটি রুটটি বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে রেল যোগাযোগ পুনরায় চালু করার জন্য পুনরুজ্জীবিত করা হয়েছে। পণ্য বোঝাই ওয়াগনের পাশাপাশি এই রুটে চলছে আন্তঃদেশীয় মিতালী এক্সপ্রেস।

মুখ্য সচিব এম তোফাজ্জেল হোসেন মিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন রেলওয়ে সচিব ড. মো. হুমায়ন কবির। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন রেলমন্ত্রী মো নুরুল ইসলাম সুজন।

এফএস

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here